ধর্ম—একটি শব্দ, যা শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডার আড়ালে অসংখ্য মানুষের প্রার্থনা, ত্যাগ, ভক্তি। কিন্তু আজ, এই ধর্মই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যবসা, সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র, এবং সবচেয়ে ধূর্ত প্রতারণার মুখোশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে শাসন ও শোষণের জন্য যে জিনিসটিকে সবচেয়ে নিপুণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা হলো ধর্ম।
“ধর্মের অন্তরালে” কোনো আধ্যাত্মিক বই নয়। এটি ঈশ্বরকে খোঁজার চেষ্টা নয়। বরং এটি ধর্ম নামের সংগঠিত প্রতারণা, ভণ্ডামি আর ক্ষমতালিপ্সার নগ্ন চিত্র তুলে ধরার এক নিষ্ঠুর প্রয়াস। এই বই সেইসব অন্ধকার করিডোরে আলো ফেলতে চায়, যেখানে ধর্মের নামে মানুষকে ভয় দেখানো হয়, নারীকে দমন করা হয়, শিশুদের মগজধোলাই করা হয়, আর ক্ষমতার সিংহাসনকে ধর্মীয় মোড়কে বৈধতা দেওয়া হয়।
ধর্ম কী আমাদের মুক্ত করেছে, না কি আমাদের শৃঙ্খলিত করেছে? কেন আজও ধর্মের নামে মানুষ হত্যা হয়, বোমা বিস্ফোরণ হয়, ফতোয়া জারি হয়, নরকে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে মানুষকে আজীবন ক্রীতদাস বানিয়ে রাখা হয়? এই বই এসব প্রশ্ন তোলে, কারণ এ প্রশ্নগুলো তোলা এখন সময়ের দাবি।
ধর্মের অব্যর্থ বৈধতা পেতে হাজার বছর ধরে গড়ে তোলা হয়েছে ‘অবিরোধিতার দেয়াল’। কেউ প্রশ্ন তুললেই সে ‘নাস্তিক’, ‘অপবিত্র’, এমনকি ‘শত্রু’। এই বই সেই দেয়ালে প্রথম আঘাত নয়, কিন্তু এটি একটি তীক্ষ্ণ আঘাত—যা পাঠকের মনে কাঁপন ধরাতে পারে, যদি তিনি সাহস করেন চোখ মেলতে।
ধর্মের অন্তরালে আছে এক পর্দা—যেখানে ঈশ্বরের নামে কথা বলে মানুষ, এবং সেই মানুষরাই চালায় সবচেয়ে বড় বাণিজ্য, করে নারী ও শিশু পাচার, তৈরি করে উগ্রবাদ, ভাঙে সমাজ, আর রক্তে রঞ্জিত করে পৃথিবী। অথচ তারা বলে—“এ সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা।”
এই বই তাদের মুখোশ খুলে দেয়। ধর্মের নামে যারা ব্যবসা করে, যারা গরিব মানুষের কান্নাকে পুঁজি করে প্রাসাদ গড়ে, যারা জানে মানুষ ভয় পেলে সহজে বশ মানে—তাদের কৌশল এই বইয়ের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় উন্মোচিত হয়েছে।
আমরা জানি, এই লেখা অনেকের রাগ জাগাবে, কষ্ট দেবে, ভয় দেখাবে। কিন্তু সত্য কাঁটার মতো—চাইলেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আর এই বই সেই কাঁটা—যা হৃদয়ে বিদ্ধ হলেও, বোধকে জাগ্রত করতে পারে।



Reviews
There are no reviews yet.